মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কমিটি

কমিটি সাধারণত কোন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য গঠিত হয় এবং কমিটি সে বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে সাধারণ পারে, যা পরিষদের সভায় সম্ভব নয়। কমিটি ব্যবস্থা পরিষদের সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহায়তা করে থাকে এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর দলীয় আলোচনার মাধ্যমে কমিটির সদস্যদের পরামর্শ/মতামত আহবান করার মধ্য দিয়ে সংস্থা প্রধানের গণতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের অংশগ্রহণও অনেকাংশে নিশ্চিত হয়। এতে সংস্থা প্রধানের কাজের চাপও লাঘব হয়। ফলে তিনি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে/বিষয়ে অধিকতর মনোযোগ ও সময় দিতে পারেন।

 

স্থায়ী কমিটির প্রয়োজনীয়তা

 

·         ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকান্ডে তথা ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে পরিষদের সদস্য (সংরক্ষিত এবং সাধারণ আসন) এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে;

·         দলীয় সংহতি বৃদ্ধি পাবে এবং কাজের প্রতি একাগ্রতা বাড়বে;

·         ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকান্ডে জনগণের আস্থা অর্জিত হবে;

·         পরিষদের চেয়ারম্যানের উপর কাজের চাপ কমবে, ফলে তিনি চিন্তাশীল ও উচ্চ পযায়ের যোগাযোগ ইত্যাদি কাজে সময় দিতে পারবেন;

·         চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ হবে, ফলে সদস্যরা আরও বেশি দায়িত্বশীল হবেন;

·         ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণের প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, যোগাযোগ ও সমন্বয় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে;

·         নেতৃত্বের বিকাশ হবে;

·         নিজেদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস ও অনাস্থা হ্রাস পাবে;

·         জনগণের বিভিন্ন ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্র বৃদ্ধি পাবে;

·         সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে, ফলে জনগণ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা পাবে;

স্থায়ী কমিটি গঠনের নীতিমালা

 

১) স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৪৫ ধারা অনুসারে পরিষদের কাযাবলি সুচারুরূপে সম্পাদন করার জন্য নিম্নের প্রতিটি বিষয়ে একটি করে কমিটি গঠন করবে, যথা-

 

·         অর্থ ও সংস্থাপন;

·         হিসাব নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ;

·         কর নিরুপণ ও আদায়;

·         শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা;

·         কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কাজ;

·         পল্লী অবকাঠমো উন্নয়ন, সংরক্ষণ, রক্ষনানেক্ষণ ইত্যাদি;

·         আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা;

·         জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন;

·         স্যানিটেশন, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন;

·         সমাজকল্যাণ ও দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা;

·         পরিবেশ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ;

·         পরিবারিক বিরোধ নিরসন, নারী ও শিশু কল্যাণ;

·         সংস্কৃতি ও খেলাধুলা।

২) এ আইনের বিধান সাপেক্ষে, প্রয়োজনে, ডেপুটি কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, অতিরিক্ত স্থায়ী কমিটি গঠন করতে পারবে;

৩) পরিষদের সদস্যগণের মধ্য হতে স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবে এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন হতে নির্বাচিত সদস্যগণ কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ স্থায়ী কমিটির সভাপতি হবেন;

৪) স্থায়ী কমিটির সকল কাযধারা পরিষদের সাধারণ সভার অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে;

৫) নিম্নলিখিত কারণে পরিষদ কোন স্থায়ী কমিটি ভেঙ্গে দিতে পারবে, যথা-

     # বিধি মোতাবেক নিয়মিত সভা করতে না পারলে;

     # নির্ধারিত ক্ষেত্রে ক্রমাগতভাবে পরিষদকে পরামর্শ প্রদানে ব্যর্থ হলে; বা

     # এ আইন বা অন্য কোন আইনের বিধান বহির্ভূত কাজ করলে।


Share with :

Facebook Twitter